October 27, 2026, 7:01 am

‘রাতারাতি বীমা খাতের সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়’

‘রাতারাতি বীমা খাতের সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়’

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেছেন, রাতারাতি বীমা খাতের সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। এতোদিন আমরা কমপ্লায়েন্স না মানলে শুধু কোম্পানিকে জরিমানা করেছি। এখন ব্যক্তিকেও অর্থাৎ অভিযুক্ত কর্মকর্তাকেও জরিমানা করা হবে। এইসব সমস্যা সমাধানে আমাদের বেশ কিছু আইন করেছি। আরও কিছু আইন তৈরির কাজ চলছে।

বুধবার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) নিজস্ব কার্যালয়ে ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে আইডিআরএ চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। এসময় সিএমজেএফ সভাপতি এবং অর্থসূচকের সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সিএমজেএফের সাধারণ সম্পাদক আবু আলী সহ অনুষ্ঠানে ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট এবং অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা দেখবেন আমরা দুর্নীতি করছি কিনা। সমস্যা সমাধানে কাজ করছি কিনা। সব কিছু দেখে সমালোচনা করবেন। তবে যৌক্তিক আলোচনা বা সমালোচনাকে আমি পছন্দ করি। আমরা যেমন বীমা খাতের উন্নয়নে কাজ করছি আপনারাও সে কাজে সহযোগিতা করবেন বলে আশা করছি।

বীমা দাবি পরিশোধে তদবির করতে হয়, তবুও গ্রাহক টাকা পায় না, এই বিষয়ে আইডিআরএ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে জয়নুল বারী বলেন, মানুষ বীমা করে সময় শেষে যেন টাকা ফেরত পায় সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। এই বিষয়ে আমরা একটা সেল গঠন করেছি। তৈরি করা সেল কমিটির কাছে প্রচুর অভিযোগ আসে। অভিযোগগুলো নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। প্রয়োজনে কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও এসব বীমাদাবি পরিশোধের জন্য কাজ করছি। তবে কিছু সম্পত্তি যে দামে কিনেছে সে দামে বিক্রি হচ্ছে না। এজন্য সময় লাগছে। তবে চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ দামে যেন বিক্রি করা হয়।

তিনি বলেন, কিছু কোম্পানি অতিরিক্ত টাকা খরচ করেছে। কেউ ম্যানেজমেন্ট খরচ বেশি করেছে। কেউ জমি কিনেছে বেশি দামে। এসব জমি বিক্রি করতে গেলে দেখা যায় কেনা দামের কমে বিক্রি করতে হচ্ছে, এজন্য চাইলেও বিক্রি করা যাচ্ছে না। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যৌক্তিক দামে বিক্রি করতে, তাহলে গ্রাহকের টাকাগুলো পরিশোধে বড় ভুমিকা রাখবে।

মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৭টা কোম্পানির বোর্ডকে ডেকেছি এবং তাদের অবস্থান তুলে ধরেছি। তাদের প্রিমিয়াম কেমন এবং কি ধরনের সম্পদ আছে তা দেখেছি। সব শেষ যাতে ম্যাচিউরড পলিসিগুলো পরিশোধ করে সেই পরিকল্পনা চেয়েছি। এসব তথ্যগুলো দিলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।

তিনি বলেন, বীমা কোম্পানিগুলো যে পরিমান প্রিমিয়াম পায় সেটা কোথায় খরচ করে এবং কোথায় ইনভেস্ট করে এসব তথ্যগুলো আমরা দেখি। প্রতি মাসে এসব প্রতিবেদনগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করি। এর ধারাবাহিকতায় আমরা তাদের সঠিক গাইডলাইন দিয়ে থাকি। কোম্পানিগুলো সব চেয়ে বেশি অনিয়ম করে জমি ক্রয়ের সময়। এজন্য আমরা এখন জমি ক্রয়ের অনুমতি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেই না।

বীমা খাতের সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জয়নুল বারী বলেন, নন কমপ্লায়েন্স বড় চ্যালেঞ্জ। কোম্পানির অনিয়ম বন্ধ হলেই অনেক কিছু সমাধান হয়ে যাবে।

ডেল্টা লাইফের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, আইন অনুযায়ী দুইটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে হয়তো বোর্ড ভেঙে দেওয়া যেতে পারে। অথবা কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া যায়। কিন্তু আমরা ভেবে দেখলাম কোম্পানিটি ভালো ছিলো তাই চেষ্টা করেছি কীভাবে আবার দাঁড় করানো যায় সে কাজ শুরু করলাম। এর পর আদালত থেকে একটা রায় হয়, সব মিলে তাদের স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা কিছু শর্ত দিয়ে আদালতে পাঠালাম। আদালতের রায়ের পর তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে অনুমোদন করেছি।

বীমা খাতের প্রচারণার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিন্তু কত টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবে সেটা বলা নেই। ব্যয়ের পরিমান কত হতে পারে এই বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে জয়নুল বারী বলেন, বীমা খাত ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নতুন নতুন জায়গায় যেতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে নন লাইফ বীমা কোম্পানির সঙ্গে একটা বৈঠক করেছি এবং তাদের কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছি। প্রচারণায় গুরুত্ব রাখে বীমা খাতের ব্যাপ্তি বাড়াতে। এসব কাজে যেন অতিরিক্ত খরচ না হয় সেটা আমরা দেখবো।

অনুষ্ঠানে দেশের বীমা খাতের পরিস্থিতি এবং আইডিআরএর গুরুত্ব নিয়ে অর্থসূচক সম্পাদক এবং সিএমজেএফ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেন, একটি দেশের অর্থনিতীর জন্য বীমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমাদের দেশের অর্থনিতী যে গতিতে এগুচ্ছে সে গতি ধরে রাখতে গেলে অনেকগুলো খাত রয়েছে যে খাতগুলোর উন্নয়নের একটা ভারসাম্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। এমনই একটি খাত আমাদের বীমা খাত। আমাদের বীমা খাতের যতোটা উন্নত হওয়া দরকার ছিলো সে অনুযায়ী আমাদের বীমা সক্টরের বিকাশ ঘটেনি।

তিনি বলেন বীমা নিয়ে একটা আস্থার সংকট আছে, এখানে ভালো জনবলের সংকট আছে, এবং অন্যান্য আরও কিছু সমস্যা তো আছেই। এসব নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে বীমা খাতকে তুলে আনতেই আইডিআরএ বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com